শিশুদের ওপর সহিংসতা: নীরবতার সংস্কৃতি ভাঙার সময় এসেছে

বাংলাদেশের মতো জনবহুল একটি দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের উপর যৌনপীড়ন ও বলাৎকারের মতো ঘটনাগুলো বেশ আলোচনায়। ভয়াবহ নির্যাতনের এমন চিত্র জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রায় প্রতিদিনই নির্ভরযোগ্য সংবাদপত্রের পাতায় স্থান পাচ্ছে শিশুদের যৌন, মানসিক নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ।

কিন্তু ৯৩% মুসলিম অধ্যুষিত এ ভূখণ্ডে গণমাধ্যমের শিরোনামে বেশ ছোট করে ধর্মীয় কারণে মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি শিশুদের যৌন নির্যাতন/বলাৎকারের বিষয়টি আলোচনার অন্তরালে রাখার চেষ্টা করা হয়।

ভুক্তভোগী শিশু ও পরিবারগুলো ভয়, লজ্জা, ধর্মীয় প্রভাবের কারণে এমনসব বিষয় প্রকাশে অপারগতা দেখায়।

ধর্মীয় আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, জিহাদি, মৌলবাদী, ধর্ম-ব্যবসায়ী, শরিয়াহ আইনের শাসন চাওয়া পক্ষগুলোর কেউ অন্ততপক্ষে এসব যৌনপীড়নের শিকার শিশুদের পাশে এসে দাঁড়াবেন। কিন্তু আমার ধারণা ভুল। ধর্ম সবসময় নিরপেক্ষ নয়। ধর্ম বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন। এসব অপরাধ বাংলাদেশের নারী ও শিশু অধিকার আইন ২০০০-এর ব্যত্যয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।

আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে এমন নৃশংস এবং যৌনাচারের এমন বিকৃত চর্চা চলতে থাকলেও, শুধুমাত্র দ্বীন ইসলামের টুপির বদৌলতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এবং আবাসিক মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষার নামে মাদ্রাসাগুলো হেরেমখানায় পরিণত করা হয়েছে। এমন ধর্মের চর্চার প্রতি আমার অত্যুক্তি তৈরি হয়েছে।

যে ইসলাম এবং এর অনুসারীরা এমন দলবদ্ধ বলাৎকারে লিপ্ত, শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত থেকেও এসবের প্রতিবাদের বিপরীতে প্রকাশিত সত্যকে মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে—এমন ইসলাম ধর্ম ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের পরিত্যাগ করতে চাই।

ন্যায়বিচারের চেয়ে যখন ধর্ম ব্যবসা বড়; ধর্ম ব্যবসার প্রয়োজনে যেখানে শিশুদের কান্না, যন্ত্রণা এবং অপমৃত্যুর মিছিলকে উপেক্ষিত করা হয়, এমন ধর্মের বিরোধিতা অন্যায় নয়। এমন ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের জন্য সেসব শিশুদের পাশে দাঁড়ানোই মানবিক ধর্ম। এবং মাদ্রসা শিক্ষা ব্যবস্থার নামে যৌনপীড়ন বন্ধে মাদ্রসার এসব উঁচু দেয়াল বন্ধে এবং ভেঙ্গে দিতে সরকারের উদ্যোগ ও সদিচ্ছা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *