ধর্ম, জঙ্গিবাদ ও মানবতা: শান্তির ধর্মের নামে সহিংসতার প্রশ্ন

শরীয়াহ আইনের বাস্তবায়ন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই—এমন স্লোগান বেশ প্রবল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে।

আল-ইসলামু দীনুস সালাম-এর অর্থ দ্বীন ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু আরবের আইয়ামে জাহেলিয়াত (অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ)-এ যে ইসলামের সূত্রপাত যুদ্ধ-বিগ্রহের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা; এর আধুনিক রূপ কি ইসলামী মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা?

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা মানবিক। এখানে ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও যৌন পরিচয়ের মানুষ স্বাধীনভাবে জীবনকে দেখার এবং চর্চার সুযোগ পায়। দ্বীন ইসলামও ভিন্ন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা প্রকাশ করে। কিন্তু ধর্মের নামে সুনির্দিষ্ট কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী—জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর মতাদর্শে বিশ্বাসী জিহাদি গোষ্ঠী, জিহাদি জঙ্গিরা—বাংলাদেশকে আফগানিস্তান মডেলের রাষ্ট্র বানাতে বদ্ধপরিকর।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্র ক্ষমতায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদে। এবং এ দুটো দলের বিরুদ্ধেই জঙ্গিবাদের চর্চা ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। চার দলীয় জোটের ব্যানারে ২০০১-২০০৬ সময়কালে সারাদেশে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়েছে। স্বয়ং তারেক রহমান ও তাঁর এক সময়ের জঙ্গিবাদী নেটওয়ার্কের হেরেমখানা হাওয়া ভবন থেকে সারাদেশে এর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে উঠে এসেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যে। এবং জঙ্গিবাদের একজন উচ্চপর্যায়ের নির্দেশদাতা তারেক রহমানের বর্তমান শাসনামলেও এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

এরই মধ্যে ঢাকা সহ সারাদেশে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী কলেমাখচিত কালো পতাকা নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল ও সহিংসতায় জড়িয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল এ গোষ্ঠীর সদস্যরা দেশের মানচিত্র ও নারীদের স্বাধীনতা, লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং সকল মুক্ত মত ও চিন্তার স্বাধীনতার ওপর কালো কাপড়ের আবরণ পরিয়ে দিতে চায়।

কিন্তু ইসলাম কি ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার সমর্থন করে?

নিরীহ মানুষ হত্যা করে কি বেহেশত নামক হুরের হেরেমখানায় পরকালে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব?

শুধুমাত্র ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। ধর্মের ফোবিয়া তৈরি করে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমাজতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে রক্তের হোলিখেলায় মত্ত এই জিহাদিরা।

যে ধর্মের কানুন, নিয়মনীতি সমাজের বিভেদ ও সহিংসতাকে উস্কে দেয়, সে ধর্মের প্রয়োজন কি?

সকল মানুষকে তাই ধর্মবিনাশী মানববলয়ে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই। মানবতাই ধর্ম। এমন ইসলাম পরিত্যাজ্য যে ইসলাম বিভেদকে ছড়িয়ে দেয় মানববলয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *