ধর্ম নয়, উগ্রবাদ: রাজনীতি ও ইসলামের অপব্যবহারের প্রশ্ন (পর্ব-১)

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে ভাদ্র মাসের সকাল। এমন আকাশ দেখায় বেশ লালচে। গুমোট মেঘ। এমন মেঘে বৃষ্টিপাত হবার সম্ভাবনা খুব কম।

ছাত্রজনতার গণপ্রতিরোধের মুখে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় স্বৈরিণী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা ফ্যাসিবাদী অপশাসনের ইতি টানে এ দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয় বিএনপি। বিএনপি চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সময়টা ভাদ্র মাস।

একটি গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই সারাদেশে একযোগে শরিয়াহ আইনের শাসনের দাবিতে কলেমাখচিত কালো পতাকা হাতে রাজপথে সরব হয় সুনির্দিষ্ট কিছু ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। ধর্মকে ব্যবহার করে গড়ে ওঠা একদল ইসলামী মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থীরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতাকে উস্কে দিতে থাকে দ্বীন ইসলামের অপব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার, দরবার, আখড়ায় উগ্র মবের আক্রমণের মধ্য দিয়ে বাউল, সূফী, সাধকদের জীবনকে শঙ্কায় ফেলা হয়। ধর্মকেন্দ্রিক পীর, ফকির, মাজারের চিরায়ত সংস্কৃতির মানুষদের জীবনে নিয়ে আসে ভয়ংকর বিপন্নতা।

“নারায়ে তাকবির”, “নারায়ে রিসালাত”—এমন স্লোগানে একের পর এক উগ্রবাদী হামলায় বন্ধ হয়ে যেতে থাকে বাউল গানের আসর, ঐতিহ্যবাহী ওরস; আক্রান্ত হতে থাকে মাজার, আখড়াসহ ভিন্ন মত, ভিন্ন ধর্ম এবং ভিন্ন পরিচয়ের মানুষেরা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী সারাদেশে এমন সহিংস হামলার সংখ্যা প্রায় ৯৭টি; যার মধ্যে মাত্র ১১টি হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এবং এর মধ্যে সবচেয়ে বীভৎস রূপটি দেখা যায় রাজবাড়ী জেলার নূরাল পাগলার মাজারে। এখানে শুধু ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাই ঘটেনি; কবর থেকে তুলে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একজন পীরের লাশ।

কিন্তু বাংলাদেশে চলমান ইসলাম ধর্মের নামে, শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়নের নামে এমন বীভৎসতা কি প্রকৃত ইসলামকে প্রকাশ করে?

এর উত্তর—না।

ইসলাম কখনোই ধর্মের নামে এ ধরনের উগ্রবাদ, মৌলবাদ ও চরমপন্থার নামে সহিংসতাকে সমর্থন করে না। এটি প্রকৃতপক্ষে ইসলাম নয়।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। যেখানে বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদেরও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও জীবনধারণের অধিকারকে স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *