প্রথম পর্বের পর…
উল্লেখ্য, সারাদেশে এসব সাম্প্রদায়িক হামলাসহ সহিংসতার ঘটনায় মৌলবাদী গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন মসজিদের ইমাম। তাঁরা ঈমান-আকীদা রক্ষা কমিটির নামে এমন সব সহিংসতার ঘটনায় জড়ায়। ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে তৌহিদী জনতার উৎপাত নবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর থেকেই। যারা একটি পক্ষ ও গোষ্ঠি; ইসলামকে বিকৃত উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে সাধারণ মুসলমান ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষদের মধ্যে ইসলাম ও কোরান সম্পর্কে ভ্রান্তি তৈরি করে।
দ্বীন ইসলামের নামে বাংলাদেশে যে ইসলামের চর্চা ধর্মীয় আলেম, হুজুর, ইমাম, পীর ও মাশায়েখরা পালন করে, তা প্রকৃত ইসলামের রূপ নয়। ইসলাম কখনোই ধর্মের নামে ভিন্ন মত, ধর্ম, গোত্র ও যৌন পরিচয়ের মানুষদের প্রতি সহিংসতা প্রকাশ করে না।
ধর্মের অপব্যাখ্যার নামে রাজনৈতিক স্বার্থে যারা ইসলামকে ব্যবহার করে সহিংসতা ও উগ্রবাদ ছড়ায়, তাদের প্রতি রয়েছে কোরআনের স্পষ্ট নির্দেশনা। সূরা বাকারার ১৭৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “এরা এমন লোক, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহী এবং ক্ষমার বিনিময়ে শাস্তি ক্রয় করেছে। তারা আগুন সহ্য করতে কতই না ধৈর্যশীল।”
মহান আল্লাহ এমন জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে যারা সহিংসতা ছড়ায় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে, তাদের জাহান্নামের শাস্তির সুসংবাদ দিচ্ছেন। এরা ইসলামের দৃষ্টিতে সীমালঙ্ঘনকারী।
কিন্তু এমন উগ্রবাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থান কী?
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলা হয় রাজনীতির কালো সন্তান। প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার কু-পুত্র। তাঁকে ঘিরে রয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
বিগত চারদলীয় জোট শাসনামলে ঘুষ-বাণিজ্য, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা-সহ অসংখ্য অভিযোগে আদালতের শাস্তিপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন তারেক রহমান। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই সারাদেশে এমন কার্যক্রমের খবর পাওয়া যাচ্ছে নতুন করে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্যাকাশে নতুন করে এক ধরনের গভীর সংকটের বার্তা দিচ্ছে।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিল এ দেশের ছাত্রজনতা, সে বাংলাদেশে ঋতুর পালাবদলে ভাদ্র মাস আসন্ন। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা এমন গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সাধারণ মুসলিমদের ভূমিকা রাখতে হবে। সহিংসতা কখনোই প্রকৃত ইসলাম নয়। দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। কেউ যেন শান্তির ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে সাধারণ মুসলিমদের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে কাউকে বিপদগামী করতে না পারে, সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে। একই সাথে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে এসব উগ্রবাদ ও মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির সঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা মৌলবাদী জামায়াতের সন্ধি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অশনিসংকেত। যা নতুন করে বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের সম্ভাবনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করছে। বিএনপিকে তাঁর অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ধর্মান্ধ এসব গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে।
ধর্মের উগ্রবাদীদের সঙ্গে গণতন্ত্রের ভাষা কখনো সহাবস্থান হতে পারে না। যা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, মুসলমান ও ধর্মকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ভুল বার্তার সঞ্জীবনী মানুষের মধ্যে প্রবাহিত করে।






Leave a Reply