বাংলাদেশে ইসলামের নামে চর্চা হয়ে আসছে ইসলামী মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা। দ্বীন ইসলামের সাথে ধর্মীয় রাজনীতির প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে তথাকথিত শরিয়াহ আইনের নামে এক শ্রেণির ধর্মের মাওলানাদের অপকর্ম। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম যত বাড়ছে; এর সমান্তরালে বাড়ছে শিশু ধর্ষণ, হত্যা, বলাৎকার, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাস।
ধর্মকে এমন অধর্মের জায়গায় উপনীত করা হয়েছে, যেখানে নৈতিকতা ও মানবাধিকার বিবর্জিত। অপরাধ এবং যৌনতাকে প্রাসঙ্গিক করে তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশে ধর্মচর্চার যে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা আসলে ইসলাম না। এ ইসলাম আইয়ামে জাহেলিয়াত (অন্ধকারাচ্ছন্ন) আরবের ১৪০০ বছর আগের পৌত্তলিকদের (মূর্তিপূজার) উপাসনা ধর্মে পরিণত হয়েছে।
ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী একজন মুসলিম হিসেবে মনে করি; ইসলামের যে প্রকৃত রূপ, এটি বাংলাদেশের ধর্মান্ধ মুসলমানসহ গড়ে ওঠা মসজিদ, মাদ্রাসা, পীরপ্রথা সহ ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইসলামী দলগুলোর মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এখানে ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও যৌন পরিচয়ের মানুষদের প্রতি ইসলামের যে আচরণ পরিলক্ষিত হয়, তা বেশ আগ্রাসী।
এখানে দ্বীন ইসলামকে ব্যবহার করে মনগড়াভাবে ধর্মের অপব্যাখ্যা, ফতোয়া, ইজমা, কিয়াস ও শরিয়াহ আইনের পাপাচার ও যৌনতাকে উপলক্ষ্য করে। ধর্মীয় শিক্ষার নামে এ দেশের আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে ছেলে শিশুদের বলাৎকারকে বৈধ করা হয়, মেয়ে শিশুদের ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বিয়ের নামে শরীরে যৌনতার বোধ শুরু হওয়ার আগেই বিয়ের নামে শিশুদের ধর্ষণ করার শরিয়াহ আইনের ফতোয়া প্রচার করে ধর্মের মাওলানারা। উদাহরণ হিসেবে;
নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কমবয়সী স্ত্রী (৬ বছর) বয়সে বিয়ের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়। যেখানে স্বয়ং নবী মুহাম্মদ (সা.) আয়িশাকে স্বপ্নে দেখেছিলেন। এবং আল্লাহ কোরানের আয়াত নাজিলের মাধ্যমে বিয়ের এ অনুমতি প্রদান করেন। যদিও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের আইন কিংবা ভিয়েনার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রিচারড তাঁর এক গবেষণায় বলেন, চৌদ্দ বছরের কম বয়সী, ঋতুবতী হয়নি এমন নারীদের প্রতি যাদের যৌন আকর্ষণ, তারা মানসিক রোগী। বাংলাদেশের আইনেও তা শিশু অধিকার আইন ২০০০-এর ব্যত্যয় এবং শিশুদের প্রতি তা যৌন নির্যাতন। এবং বিয়ের নামে শিশু ধর্ষণ।
সম্প্রতি পবিত্র ধর্ম ইসলামের নামে বাংলাদেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদের উত্থান, মাওলানা, হুজুর, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে পালবেঁধে শুকরের মতো ধর্ষণের মহোৎসব বিদ্যমান। যেখানে মসজিদ-মাদ্রাসার মতো জায়গাগুলো এখন ধর্মীয় যৌনালয়ে পর্যবসিত হয়েছে।
একই সঙ্গে ইসলামের নামে নারীর স্বাধীনতাকে শেকলবন্দি করা হয়েছে। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, খেলাফত মজলিস ও হেজবুত তাহরিরের মতো ইসলামী মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলো বেশ আগ্রাসী। যারা ধর্মকে পুঁজি করে প্রতিনিয়ত আসমানি কিতাব কোরানকেও শরিয়াহ আইনের নামে নিজেদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করতে কোরানের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে এটিকে একটি যৌনকর্মের প্রাগৈতিহাসিক রূপকথার বইতে পরিণত করেছে। এটিকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করার অপপ্রয়াস চলছে, যেখানে শিশু ধর্ষণ বৈধ, স্ত্রী ধর্ষণ বৈধ।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিও এখানে ধর্ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। জাতীয় সংসদে তাই এখনও জামায়াতে ইসলামীর মতো উগ্রবাদী একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের নারীদের কালো পাঠার পালের মতো দেখা যায়, আপাদমস্তক ঢাকা অবস্থায় বোরখা ও হিজাবে অন্ধকারে নিজেদের আড়াল করে রাখতে। এসব নারীর অধিকারের প্রশ্নে নিজেদের আত্মমর্যাদার যৌনাঙ্গ উত্থিত হয় না।
বিএনপির একজন সংসদ সদস্য এদের দিকে আঙুল তুলে বলেন;
এরা কারা? এদের তো আমরা চিনতে পারলাম না?
এরা মূলত ধর্মের অপব্যাখ্যার যাঁতাকলে পিষ্ট দাসীবাঁদী, সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র, বুদ্ধিশুদ্ধিহীন প্রাণী ও নিচু জাতের জীব হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর মৌলবাদীদের যৌনাঙ্গের ব্যবহৃত পতিতা। এরাও মৌলবাদী। ইসলাম কখনো এমন মৌলবাদকে সমর্থন করে না।
বাংলাদেশে যে ইসলামের চর্চা হয় ও হয়ে আসছে তা মূলত আরবের আইয়ামে জাহেলিয়াতের একটি প্রতিচ্ছবিকে স্পষ্ট করে।








Leave a Reply