বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান—এটি আমাদের সামাজিক বাস্তবতা। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম এবং রাষ্ট্রের ধর্ম এক বিষয় নয়।
আমি একজন মুসলমান। ইসলাম আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, নৈতিকতা ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সেই কারণেই আমি মনে করি না যে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ইসলামকে অন্য ধর্মের ওপরে সাংবিধানিক মর্যাদা দেবে, কিংবা ইসলামী বিশ্বাসের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যাকে রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক জীবনের ওপর চাপিয়ে দেবে।
বরং একজন মুসলমান হিসেবেই আমি এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে কোনো ধর্মই রাষ্ট্রের ধর্ম নয়। রাষ্ট্র সবার—কোনো ধর্মের নয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২A অনুচ্ছেদে বর্তমানে বলা হয়েছে, “The state religion of the Republic is Islam”—অর্থাৎ ইসলাম বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম। একই সঙ্গে সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক টানাপোড়েন রয়েছে। রাষ্ট্র যদি সত্যিই সব নাগরিকের হয়, তাহলে তার সাংবিধানিক পরিচয়ে একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার প্রয়োজন কী? আমার মতে, বাংলাদেশের সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্মের ধারণা বিলুপ্ত করা উচিত। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম থেকে বাদ দেওয়া মানে ইসলামকে বাদ দেওয়া নয়। এর অর্থ হলো—রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে নিজের ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করবে না।
মুসলমানেরা তাদের ধর্ম পালন করবে, হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও নিজেদের ধর্ম পালন করবে। একইভাবে নাস্তিক ও অজ্ঞেয়বাদীরও কোনো ধর্ম পালন না করার অধিকার থাকবে। রাষ্ট্রের কাজ হবে তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া নয়; বরং সবার স্বাধীনতা ও সমান নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।
সংবিধানে “বিসমিল্লাহ” থাকা কি ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
বাংলাদেশের সংবিধানের শুরুতে বর্তমানে “BISMILLAH-AR-RAHMAN-AR-RAHIM” এবং তার পাশাপাশি “In the name of the Creator, the Merciful” কথাটি রয়েছে।
এটি হয়তো সরাসরি কোনো নাগরিকের অধিকার কেড়ে নেয় না। কিন্তু প্রশ্নটি কেবল অধিকার কেড়ে নেওয়ার নয়; প্রশ্নটি রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার। একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দলিল যদি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ভাষা দিয়ে শুরু হয়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতীকী নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। তাই আমি মনে করি, সংবিধান থেকে ধর্মীয় আহ্বান বা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি বিশেষ প্রতীকী আনুগত্যের প্রকাশও সরিয়ে নেওয়া উচিত। এর অর্থ ধর্মকে অসম্মান করা নয়। বরং এর অর্থ হলো—রাষ্ট্রের সংবিধান হবে ধর্মনিরপেক্ষ; মানুষের হৃদয় ও ঘরবাড়ি ধর্মীয় হতে পারবে।
একজন মুসলমানের ঘরে কোরআন থাকবে, মসজিদে আজান হবে, মানুষ রোজা রাখবে, নামাজ পড়বে—রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার কারণে এসবের কোনোটিই বন্ধ হবে না।
রাষ্ট্র শুধু বলবে: এগুলো আপনার অধিকার; অন্যেরও তার নিজস্ব বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের অধিকার আছে। ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাষ্ট্রীয় আইন এক জিনিস নয়।
এখানে আমার নিজের মুসলমান পরিচয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য করা দরকার। আমি ইসলামের কোনো বিধানকে ব্যক্তিগতভাবে নৈতিক ও সঠিক মনে করতে পারি। কিন্তু একজন মুসলমান হিসেবে আমি যে বিধান মেনে চলতে চাই, সেটিকে রাষ্ট্রের ফৌজদারি আইনে পরিণত করার অধিকার আমার স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্মায় না। কারণ রাষ্ট্রের নাগরিক সবাই মুসলমান নন।
একজন মুসলমান তার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করবেন—এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা। কিন্তু একজন নাস্তিক, হিন্দু, খ্রিস্টান কিংবা অন্য কোনো বিশ্বাসের মানুষকে সেই একই ধর্মীয় বিধান মানতে বাধ্য করা—এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবরদস্তি। তাই বাংলাদেশের আইনকানুনকে এমনভাবে সংস্কার করা দরকার, যাতে কোনো ধর্মীয় মতবাদকে শুধু ধর্মীয় হওয়ার কারণে নাগরিকদের ওপর ফৌজদারি বাধ্যবাধকতা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া না হয়।
সমকামিতা এবং ৩৭৭ ধারা
এই প্রশ্নে আমি একজন মুসলমান হিসেবে আমার ব্যক্তিগত ধর্মীয় অবস্থান এবং একজন নাগরিক হিসেবে আমার রাজনৈতিক অবস্থানকে আলাদা করি। ইসলামের প্রচলিত নৈতিক ব্যাখ্যার সঙ্গে সমকামী সম্পর্ককে আমি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে নাও করতে পারি। কিন্তু একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনে কার সঙ্গে সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করবেন, সেই সম্পর্ককে রাষ্ট্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করবে কি না—এটি একটি আলাদা প্রশ্ন।
বাংলাদেশের Penal Code-এর ৩৭৭ ধারা “against the order of nature” হিসেবে বর্ণিত যৌন সম্পর্ককে অপরাধ করে এবং এর জন্য যাবজ্জীবন বা সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখে। আমি মনে করি, সম্মতিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক সমলিঙ্গ সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এই বিধান বাতিল করা উচিত। এটি সমকামিতাকে ধর্মীয়ভাবে সঠিক ঘোষণা করা নয়।
একজন মুসলমান ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারেন, “আমি এটিকে আমার ধর্মীয় নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করি না।” কিন্তু রাষ্ট্রের বক্তব্য হওয়া উচিত: “আপনি আপনার ধর্মীয় নৈতিকতা অনুসরণ করুন; অন্য প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে তার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য অপরাধী বানানো রাষ্ট্রের কাজ নয়।” এই পার্থক্যটি একটি মুক্ত সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মের সমালোচনার অধিকার
একই যুক্তি ধর্মীয় মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমি ইসলামকে সত্য ধর্ম বলে বিশ্বাস করি। কিন্তু এই বিশ্বাস থেকে আমি দাবি করতে পারি না যে অন্য মানুষকে ইসলাম সম্পর্কে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতেই হবে।
কেউ ইসলাম নিয়ে কঠোর সমালোচনা করতে পারেন। কেউ কোরআনের কোনো আয়াতের ব্যাখ্যার বিরোধিতা করতে পারেন। কেউ ইসলামের ইতিহাস, মুসলিম সমাজ কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করতে পারেন। এমনকি কেউ ইসলামকে সম্পূর্ণ ভুল বা অসত্যও বলতে পারেন।
আমি তার সঙ্গে তীব্রভাবে দ্বিমত করতে পারি। কিন্তু তার বক্তব্যের জবাব দেওয়া আমার অধিকার; তাকে চুপ করিয়ে দেওয়া আমার অধিকার নয়।
বাংলাদেশের Penal Code-এর ২৯৫A ধারা ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণভাবে অপমান করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যযুক্ত কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। ধর্মীয় উপাসনালয়, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় অনুভূতিকে সুরক্ষার জন্য আরও কিছু ফৌজদারি বিধান রয়েছে। আমার মতে, ধর্মীয় মানুষের বিরুদ্ধে হুমকি, সহিংসতা, নিপীড়ন বা বৈষম্য অবশ্যই অপরাধ থাকবে। কিন্তু কোনো ধর্মের মতবাদ, ধর্মগ্রন্থ, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করাকে কেবল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ভিত্তিতে অপরাধ করা উচিত নয়। অর্থাৎ আইনের সুরক্ষা হওয়া উচিত মানুষের জন্য, মতবাদের জন্য নয়। কেউ একজন মুসলমানকে তার ধর্মের কারণে আক্রমণ করলে রাষ্ট্র তাকে রক্ষা করবে। কিন্তু কেউ ইসলামকে সমালোচনা করলে রাষ্ট্র ইসলামের হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করবে না। একই নীতি অন্য সব ধর্মের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বাক্-স্বাধীনতা মানে ঘৃণা বা সহিংসতার স্বাধীনতা নয়। এর অর্থ এই নয় যে “মুক্ত মতপ্রকাশের” নামে যে কেউ অন্য মানুষকে হত্যা বা নিপীড়নের আহ্বান জানাতে পারবে। ধর্মের সমালোচনা এবং ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এক জিনিস নয়।
“ইসলাম একটি ভুল ধর্ম”—এটি একটি মতামত। “মুসলমানদের হত্যা করো”—এটি সহিংসতার আহ্বান। একইভাবে “খ্রিস্টধর্মের এই মতবাদ ভুল” বলা এবং “খ্রিস্টানদের মেরে ফেলো” বলা এক নয়। রাষ্ট্রের উচিত এই পার্থক্যটি স্পষ্ট রাখা। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজ, রাষ্ট্র, আইন, বিচার বিভাগ প্রায়শঃ এই ব্যাপারগুলোকে এক করে দ্যাখে।
তাহলে কি ইসলামকে রাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া মানে ইসলামবিরোধিতা? না। বরং আমার কাছে উল্টোটা সত্য। আমি বিশ্বাস করি, ধর্ম যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন ধর্মও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাষ্ট্র যখন কোনো ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দেয়, তখন সেই ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ধর্মীয় পরিচয় তখন বিশ্বাসের পরিবর্তে ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। আমি এমন ইসলাম চাই না, যে ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে পুলিশের লাঠি দরকার। আমি এমন ইসলাম চাই, মানুষ যে ইসলামকে নিজের বিবেক, বিশ্বাস ও আস্থার কারণে গ্রহণ করবে। রাষ্ট্র ইসলামকে রক্ষা করবে না; রাষ্ট্র মুসলমানের অধিকার রক্ষা করবে। রাষ্ট্র নাস্তিকতাকে রক্ষা করবে না; রাষ্ট্র নাস্তিকের অধিকার রক্ষা করবে। রাষ্ট্র সমকামিতাকে ধর্মীয়ভাবে অনুমোদন করবে না; রাষ্ট্র সমকামী মানুষের নাগরিক নিরাপত্তা ও সমান আইনি মর্যাদা রক্ষা করবে এই ব্যাপারে ইসলাম ও মুসলমানদের ব্যাক্তিগত মনোভাব যা-ই হোক না কেন। রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে সত্য বা মিথ্যা ঘোষণা করবে না।
একটি সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের দাবি
আমার কাছে তাই ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের দাবি মানে মসজিদ বন্ধ করা নয়, ইসলামকে মানুষের জীবন থেকে মুছে ফেলা নয়, মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয় অস্বীকার করা নয়। বরং এর অর্থ অনেক বেশি সরল: রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকবে না। এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে—
১। সংবিধানের ২A অনুচ্ছেদ থেকে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণাটি বিলুপ্ত করা;
২। সংবিধানের শুরুতে থাকা “বিসমিল্লাহ”সহ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিশেষ প্রতীকী রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পুনর্বিবেচনা বা অপসারণ করা;
৩। রাষ্ট্রীয় আইন ও নীতিনির্ধারণে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে বিশেষ রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়া;
৪। সম্মতিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক সমলিঙ্গ সম্পর্ককে অপরাধী করা ৩৭৭ ধারা বাতিল করা;
৫। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের নামে শান্তিপূর্ণ ধর্মসমালোচনা বা মতপ্রকাশকে অপরাধী করার বিধানগুলো বিলুপ্ত বা এমনভাবে সংস্কার করা, যাতে বৈধ সমালোচনা সুরক্ষিত থাকে;
৬। একই সঙ্গে ধর্মের অনুসারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হুমকি, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইন বজায় রাখা; এবং সকল নাগরিকের বিবেক, ধর্মবিশ্বাস, অবিশ্বাস ও মতপ্রকাশের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
এসব কোনো ইসলামবিরোধী কর্মসূচি নয়। এসব হলো রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ করার কর্মসূচি। আমি এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে একজন মুসলমান নিশ্চিন্তে নামাজ পড়তে পারবেন, আবার একজন নাস্তিক নিশ্চিন্তে বলতে পারবেন যে তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না। যেখানে একজন হিন্দু তার পূজা করতে পারবেন, একজন খ্রিস্টান তার ধর্ম পালন করতে পারবেন, একজন বৌদ্ধ তার ধর্মীয় আচার পালন করতে পারবেন। যেখানে একজন সমকামী মানুষ তার ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন, যদিও কোনো মুসলমান বা অন্য ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি তার জীবনযাপনকে নিজের ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে নাও করতে পারেন। যেখানে কেউ ইসলামকে ভালোবাসলে তাকে তার বিশ্বাসের জন্য নিপীড়ন করা হবে না। আবার কেউ ইসলামকে সমালোচনা করলে তাকেও তার বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে চুপ করিয়ে দেওয়া হবে না। কারণ ধর্মের স্বাধীনতা এবং ধর্ম থেকে স্বাধীনতা—দুটিই স্বাধীনতার অংশ। আমি মুসলমান হিসেবে ইসলামকে বিশ্বাস করি।
কিন্তু বাংলাদেশকে আমি শুধু মুসলমানদের রাষ্ট্র হিসেবে নয়, মুসলমানসহ সকল বাংলাদেশির রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। রাষ্ট্রের ধর্ম না থাকুক—মানুষের ধর্ম থাকুক। রাষ্ট্র কোনো ধর্মের পক্ষ না নিক—মানুষ যেন নিজের বিশ্বাসের পক্ষ নিতে পারে। রাষ্ট্র কোনো মতবাদকে সত্য ঘোষণা না করুক—মানুষ যেন সত্যের সন্ধানে স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারে। আমার কাছে এটাই ধর্মনিরপেক্ষতার প্রকৃত অর্থ। এবং একজন মুসলমান হিসেবে আমি মনে করি, বিশ্বাসকে বাঁচিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় জবরদস্তির প্রয়োজন নেই; বিশ্বাসের শক্তি তার স্বাধীন গ্রহণযোগ্যতার মধ্যেই।








Leave a Reply